ঢাকা

The Date Here

প্রচ্ছদ

/

জাতীয়

বাগেরহাটে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ১৯টি ল্যাপটপ চুরি, ৩মাস পর মামলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি 9 months ago

 

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিসি ভাষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবের ১৯টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চুরির ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে ফাঁস হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার ৩ মাস পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভুপতি রঞ্জন রায় বাদী হয়ে বুধবার কচুয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

গত ২৫ জুন গভীর রাতের কোনো এক সময় ল্যাবের আটটি তালা ভেঙ্গে চোরেরা কৌশলে ল্যাবের ১৭টি ল্যাপটপসহ মোট ১৯টি ল্যাপটপ নিয়ে যায়। অভিযোগ ওঠে চুরির ঘটনা উদঘাটন না করে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নৈশ প্রহরীর ঘাড়ে দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। এদিকে চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ায় কথা জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানায়, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত বিদ্যায় পারদর্শী করে গড়ে তুলতে ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১৭টি ল্যাপটপ দিয়ে কার্য্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই চলতি বছরের ২৫ জুন রাতে ডিজিটাল ল্যাবের সবকয়টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ওই রাতে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন অসুস্থ নৈশ প্রহরী ফয়জুল হক। সকালে নৈশ প্রহরী ল্যাব এবং ভবনের তালা ভাঙ্গা দেখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়।

তবে ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি কোনো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি, ঘটনার তিন মাস পরে গণ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে। কিন্তু আইনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে রাতেই নৈশ প্রহরীকে আটটি ল্যাপটপ ও ল্যাব সহকারীকে পাঁচ টি ল্যাপটপ কিনে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টির সমাধান করেন।

উপায়ান্ত না পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভুপতি রঞ্জন রায় গেল বুধবার কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। 

বিসি ভাষা মাধ্যমিক বিদ্যালয় নৈশ প্রহরী ফয়জুল হক বলেন, জমি এবং গরু বিক্রি করে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে আটটি ল্যাপটপ কিনে দিতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু চাকরি টিকিয়ে রাখতে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভুপতি রঞ্জন রায় বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইফুল ইসলামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৈশ প্রহরী ও ল্যাব সহকারীর কাছ থেকে ল্যাপটপ কেনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছায়েদুর রহমান বলেন, চুরির বিষয়টি গোপন রেখে কর্তৃপক্ষকে না জানানোয় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিষয়ে কচুয়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিন হোসেন বলেন, ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সুত্রধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

বাগেরহাট প্রতিনিধি

এই সম্পর্কিত আরও খবর